
মোঃ ওবায়দুর রহমান মোস্তফা, স্টাফ অফিসার ৯ নম্বর সেক্টর, এডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট যিনি দেশ স্বাধীন করেছেন নিরবে কিন্তু নেন নি কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান। তিনি একজন নিরলস কর্মীর মতই আড়ালে থেকেছে। তার চোখে ধরা ১৯৭১ সালের জীবন্ত সময় তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য। বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের সুচনা থেকে নবম সেক্টরের জন্ম, সীমান্ত পার হওয়া, অপারেশন, সহযোদ্ধাদের বন্ধুত্ব, স্থানীয় মানুষের অবদান সবই ধরা পড়েছে সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায়। নদী, খাল, জলাভূমি যেখানে যুদ্ধ কঠিন হয়েছিল, সেই ভূগোলই তৈরি করেছিল কৌশলগত শক্তি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বই আমাদের শেখায় কৃতজ্ঞ হতে। যারা অজ্ঞাতনামা থেকেছেন, যাদের গল্প কম বলা হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় অনুভব হবে সেই অকৃত্রিম আত্মত্যাগের মহিমা, এবং ধীরে ধীরে জন্ম নেবে এক নীরব ‘ধন্যবাদ’। আর বেশ কয়েক বছর পরে যখন কোনো মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকবেন না তখন এই বই ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসেবে থেকে যাবে এই "মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টর ও আমার যুদ্ধকথা"। নতুন প্রজন্ম এখান থেকেই খুজে পাবে লেখক ওবায়দুর রহমান মোস্তফার মত নিরবে দেশ স্বাধীন করে যাওয়া কিছু মানুষের কথা।

মোঃ ওবায়দুর রহমান মোস্তফা (জন্ম: ২৫ এপ্রিল ১৯৪৯) একজন বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী এবং শিক্ষাবিদ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিবাহিনীর ৯ নং সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পরে তিনি হাই কোর্ট ও আপিলেট ডিভিশনে আইন পেশায় নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি রহমান ল অ্যাসোসিয়েটস এর প্রধান।জন্ম কাওখালি, পিরোজপুর, বরিশালে। পিতার নাম মোঃ আবদুস সামাদ এবং মাতার নাম জহুরা বেগম। তিনি স্ত্রী সেলিনা আক্তারের সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের দুই পুত্র ও এক কন্যা। তাঁর পুত্ররা উভয়েই ব্যারিস্টার এবং কন্যা সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের কার্গো ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছেন । তার বড় পুত্রবধূ ব্যারিস্টার এবং তার ছোট পুত্রবধূ একটি সনামধন্য প্রাইভেট কম্পানিতে কর্মরত আছেন। বড় মেয়ে জামাই একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।তিনি সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, বিশেষ করে শিক্ষা ও যুব উন্নয়নের ক্ষেত্রে।


"একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার স্বাধীন করা দেশের মাটিই সব পাওয়া এবং এই স্বাধীন দেশের মাটিতে মৃত্যুর পর যদি স্থান পাই সেটাই হবে শেষ পাওয়া।"

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভোর ৫টায় বাবার দোনলা বন্দুক কাঁধে নিয়ে পিকআপ ভ্যানে মাইক লাগিয়ে বরিশাল শহরজুড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন লেখক ওবায়দুর রহমান মোস্তফা। সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের গল্প।

কোনো নিয়মিত বাহিনী ছাড়াই কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের স্বল্প প্রশিক্ষণ দিয়ে 'ইনডাকশন' পদ্ধতিতে দেশের ভেতরে পাঠিয়ে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভোর ৫টায় বাবার দোনলা বন্দুক কাঁধে নিয়ে পিকআপ ভ্যানে মাইক লাগিয়ে বরিশাল শহরজুড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন লেখক ওবায়দুর রহমান মোস্তফা। সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের গল্প।
১৫ আগস্ট ১৯৭১। সুন্দরবনের গহীন থেকে লেঃ জিয়াউদ্দিন ও কমান্ডোরা পশুর নদীতে নোঙর করা পাকিস্তানি জাহাজে লিমপেট মাইন লাগিয়ে ডুবিয়ে দেন। এই সফল অভিযান ৯নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল আকাশচুম্বী করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দেয়। ক্যাপ্টেন বেগের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এই অপারেশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।১৫ আগস্ট ১৯৭১। সুন্দরবনের গহীন থেকে লেঃ জিয়াউদ্দিন ও কমান্ডোরা পশুর নদীতে নোঙর করা পাকিস্তানি জাহাজে লিমপেট মাইন লাগিয়ে ডুবিয়ে দেন। এই সফল অভিযান ৯নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল আকাশচুম্বী করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দেয়। ক্যাপ্টেন বেগের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এই অপারেশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ভারত থেকে অস্ত্র নিয়ে ফেরার পথে গাবুরায় পাকিস্তানি গানবোটের সার্চলাইটের আলোয় ধরা পড়ার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মেজর জলিলের সাহসিকতা।

২০ আগস্টের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। সুবেদার ইলিয়াস সহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধার শাহাদাত বরণ এবং ক্যাপ্টেন হুদার নেতৃত্বে শ্যামনগর থানা শত্রুমুক্ত করার কাহিনী।

লেঃ জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে সুন্দরবনের গহীনে গড়ে তোলা দুর্ভেদ্য ঘাঁটি, যেখান থেকে পরিচালিত হতো একের পর এক আচমকা আক্রমণ।

নবম সেক্টরের স্থপতি
পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েও যিনি থামেননি। সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বরিশাল শহর মুক্ত করতে যার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল চূড়ান্ত অভিযান। আকাশপথে ভারতীয় বিমান হামলার সমন্বয়ে তার রণকৌশল বরিশালকে শত্রুমুক্ত করে।

যিনি ছিলেন পাকিস্তানি সেনাদের কাছে ত্রাস। 'যমদূত' নামে পরিচিত এই কমান্ডো সাতক্ষীরা ও খুলনার বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক সফল অপারেশন চালিয়েছিলেন।

৯নং সেক্টরের সহ-অধিনায়ক। বর্ডার এলাকার যুদ্ধ পরিচালনা এবং সেক্টর ট্রুপস গঠনে যার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

ফরিদপুর অঞ্চলে মেজর হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক বিশাল বাহিনী, যারা সম্পূর্ণ নিজস্ব রসদে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
Use ← → keyboard arrows to navigate
যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের দল আপনার পাশে আছে।
obaidur.muktijoddha71@gmail.com
স্যুট ৪এ, লেভেল ৪, নির্মাণ সমাদ ট্রেড সেন্টার, ৬৩/১ পাইওনিয়ার রোড, কাকরাইল, ঢাকা–১০০০
+৮৮ ০১৮৪১ ৪৯৯ ০৩৬